নিঃসন্তান ড্যাডি - গোলাম কাসেম
বাংলাদেশের প্রবীনতম ফটোগ্রাফার এবং ছোট গল্প লেখক নিঃসন্তান মানুষ গোলাম কাসেম কে নিয়ে আমার আজকের ব্লগ লিখা।
ড্যাডি, তাঁর এই নামটি বাংলাদেশের আলোক চিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ এর দেওয়া। এর পর থেকে তাঁর গোলাম কাসেম নামটি প্রায় ঢাকা পড়েই যায়। ড্যাডি নামে স্বেচ্ছাসেবী এই মানুষটি অসম্ভব কিছু সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন পৃথিবীতে। আর পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন সৃষ্টিশীল মানুষদের জন্য।
![]() |
| নাফিস আহমেদ নাদভী এর ক্যামেরায় গোলাম কাসেম এর মুখচ্ছবি |
তিনি বাংলাদেশের প্রথম বাঙ্গালী মুসলমান ছোট গল্পকার। তাঁর লেখা সওগাত পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হতো। শিক্ষাগত যোগ্যতা- হাওড়া থেকে ১৯৯২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। হাওড়া রিপন, সিটি ও সেন্ট জেভয়ার্স কলেজ থেকে আই এ পাশ। ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দানের কারনে লেখাপড়া অসমাপ্ত।
কর্মজীবন - ১৯১৯ সালে সাব রেজিষ্টার পদে যোগদান। সর্বশেষ পদবী- ডেপুটি রেজিষ্ট্রার ভূমি। পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম ফটোগ্রাফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ট্রপিক্যাল ইন্সটিটিউট অব ফটোগ্রাফি ১৯৫১ সালে প্রতাষ্ঠিা করেন যা মাত্র দু’বছর চালু ছিল। ১৯৬৩ সালে ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব নামে একটি ফটোগ্রফি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
গোলাম কাসেম এর তোলা কিছু আলোকচিত্র:
বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এর নিয়মিত মাসিক জার্নাল নিউজলেটারে নিয়মিত লিখতেন। তাঁর কিছু লিখা এর শিরোনাম এবং প্রকাশকাল:
(০১) নবীন আলোবচিত্রীদের জন্য, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- মে -১৯৮৪)
(০২) নতুন ফটোশিক্ষার্থীদের জন্য, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- আগষ্ট-১৯৮৪)
(০৩) প্রের্ট্রোট ছবি তোলা, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- সেপ্টেম্বর -১৯৮৪)
(০৪) নতুন ফটোশিক্ষার্থীদের জন্য, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- আক্টবর-১৯৮৪)
(০৫) নতুন ফটোশিক্ষার্থীদের জন্য রঙ্গীন ফিল্টার, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- ডিসেম্বর-১৯৮৪)
(০৬) নতুন ফটোশিক্ষার্থীদের জন্য গতিশীল বস্তুও ছবি , বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- জানুয়ারী-১৯৮৫)
(০৭) নতুন ফটোশিক্ষার্থীদের জন্য এক্সপোজার, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- আক্টবর-১৯৮৫)
(০৮) আমার সংক্ষিপ্ত আত্মকাহিনী, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- ডিসেম্বর-১৯৮৬)
(০৯) ভালো নেগেটিভ কিন্তু খারাপ ছবি, , বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- জানুয়ারী-১৯৮৭)
(১০) ফটোগ্রাফীর মুশকিল ও তার আসান, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- ফেব্রুয়ারী-১৯৮৭)
(১১) নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়ণ, তাদের ধর্ম ও তাদেও ব্যবহার, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-মার্চ-১৯৮৭)
(১২) নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নেগেটিভের দোষ ও তার প্রতিকার, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-মে-১৯৮৭)
(১৩) ফটোগ্রফী ও আলো , বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- জুন-১৯৮৭)
(১৪) সার্কল অব কনফিউশন ও আনুসাঙ্গিক বিষয়, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- আগষ্ট -১৯৮৭)
(১৫) লেন্স আপ্যারচারের কথা, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- সেপ্টম্বর/ আক্টবর -১৯৮৭)
(১৬) নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য Available Light Photography, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-নভেম্বর-১৯৮৭)
(১৭) নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ছবি সৃষ্টির কলা কৌশল বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-আগষ্ট-১৯৮৮)
(১৮) ফটোগ্রাফির বিড়ম্বনা, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-সেপ্টম্বর-১৯৮৮)
(১৯) ফটোগ্রাফির বিভীষিকা, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-নভেম্বর-১৯৮৮)
(২০) নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য, ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরা ব্যবহারের কিছু কথা, নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-ডিসেম্বর-১৯৮৮)
(২১) রাজবন্দীর ফটোগ্রাফী, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-সেপ্টম্বর-১৯৮৯)
(২২) ট্রাইপড স্ট্যান্ড, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল-সেপ্টম্বর -১৯৯০)
(২৩) মিনিয়েচার ফটোগ্রাফী, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- এপ্রিল -১৯৯২)
(২৪) ফটোগ্রাফীর কিছু সমস্যা ও তার সমাধান, বি.পি.এস News Letter (প্রকাশ কাল- জুলাই -১৯৯২)
(২৫) অস্পষ্ট ছবি, বি.পি.এস News Letter(প্রকাশ কাল- আগষ্ট -১৯৯২)
(২৬) ছবির স্থায়ীত্ব, বি.পি.এস News Letter ((প্রকাশ কাল- অক্টবর -১৯৯২)
তবে তাঁর প্রকাশিত ৩ টি ফটোগ্রাফি বিষয়ক বই এর সন্ধান ও পেয়েছি।
ফটোগ্রাফি বই-
(০১)
ক্যামেরা ( প্রকাশ কাল-১৯৭১)
(০২)এক নজরে ফটোগ্রাফী, ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব ( প্রকাশ কাল- জুলাই ১৯৮৬)
(০৩) সহজ আলোকচিত্রণ, পাঠশালা দৃক (প্রকাশ কাল- ৪ সেপ্টেম্বর ২০০২)
ড্যাডি-র লিখা এই বই দুটি আমার সংগ্রহে রয়েছে...
ড্যাডি-র লিখা এই বই দুটি আমার সংগ্রহে রয়েছে...
এছাড়াও বিভিন্ন জার্নাল সাময়ীকি এবং ছোট প্রত্রিকায় গুনিজনরা লিখে গেছেন নিঃসন্তান এই ব্যক্তিটিকে নিয়ে। তবে ইন্টারনেট দুনিয়াই খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়। আজকে এই গুনি মানুষটিকে নিয়ে আমি লিখে ফেললাম বাংলা উইকিপিডিয়ায়। আপনাদের যে কারো কাছে উনার সম্পর্কিত কোন তথ্য থাকলে যোগ করতে পারেন গোলাম কাসেম নামের এই উইকিপিডিয়া পাতায়।










আপনার এই অবদান চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। আর যারা মানুষকে সম্মান দিতে জানে তারা সেই সম্মান একদিন ফিরে পায়। আল্লাহ্ আপনাকে দীর্ঘায়ূ দান করুন। আমিন
ReplyDelete